HomeoSeba

অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথ ডা. আব্দুল হাকিমের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকার

🎙️ অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের সাক্ষাৎকার

“রোগীকে মানুষ হিসেবে দেখলেই হোমিওপ্যাথিতে সাফল্য আসে” — ডা. আব্দুল হাকিম

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার জগতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও সফলতার জন্য সুপরিচিত নাম ডা. আব্দুল হাকিম। প্রায় ২৫ বছরের চিকিৎসা জীবনে তিনি হাজারো জটিল ও ক্রনিক রোগে সাফল্যের সঙ্গে চিকিৎসা দিয়েছেন। আমাদের ম্যাগাজিনের পক্ষ থেকে তাঁর সঙ্গে হোমিওপ্যাথির বর্তমান অবস্থা, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু গভীর সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।

প্রশ্ন: হোমিওপ্যাথিতে আপনার দীর্ঘ পথচলার মূল প্রেরণা কী ছিল?

উত্তর: আমি সবসময় বিশ্বাস করেছি, হোমিওপ্যাথি শুধু ওষুধ নয়—এটা একটি দর্শন। রোগীকে মানুষ হিসেবে বোঝার যে সুযোগ এই চিকিৎসা পদ্ধতিতে আছে, তা আমাকে সবসময় অনুপ্রাণিত করেছে।

প্রশ্ন: একজন নবীন চিকিৎসক সবচেয়ে বেশি যে ভুলটি করেন, তা কী?

উত্তর: সবচেয়ে বড় ভুল হলো তাড়াহুড়ো করে প্রেসক্রিপশন দেওয়া। রোগীর কথা মনোযোগ দিয়ে না শোনা এবং রেপার্টরি ও মেটেরিয়া মেডিকার সমন্বয় না করা—এই দু’টি ভুল সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।

প্রশ্ন: আপনি প্রেসক্রিপশনের সময় কোন বিষয়টিকে সবচেয়ে গুরুত্ব দেন?

উত্তর: আমি রোগীর মানসিক অবস্থা ও প্রতিক্রিয়াকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিই। কারণ মানসিক লক্ষণই অনেক সময় সঠিক রেমেডির চাবিকাঠি হয়ে দাঁড়ায়।

প্রশ্ন: বর্তমান সময়ে হোমিওপ্যাথির প্রধান চ্যালেঞ্জ কী বলে মনে করেন?

উত্তর: সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো অবৈজ্ঞানিক ও অদক্ষ চিকিৎসা চর্চা। কিছু মানুষ দ্রুত ফল দেখানোর আশায় ভুল পদ্ধতি অবলম্বন করেন, যা পুরো চিকিৎসা ব্যবস্থার সুনাম ক্ষুণ্ন করে।

প্রশ্ন: আধুনিক প্রযুক্তি ও হোমিওপ্যাথির সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত?

উত্তর: প্রযুক্তিকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। বরং ডিজিটাল রেপার্টরি, কেস ডাটাবেস ও অনলাইন জার্নাল ব্যবহার করে হোমিওপ্যাথিকে আরও প্রমাণভিত্তিক করা সম্ভব।

প্রশ্ন: নতুন প্রজন্মের চিকিৎসকদের জন্য আপনার পরামর্শ কী?

উত্তর: ধৈর্য ধরুন, বেশি বেশি কেস স্টাডি পড়ুন এবং রোগীর প্রতি আন্তরিক থাকুন। মনে রাখবেন, হোমিওপ্যাথিতে দ্রুত নয়—সঠিক চিকিৎসাই আসল সাফল্য।

এই সাক্ষাৎকার থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, অভিজ্ঞতা, মানবিকতা ও শাস্ত্রীয় জ্ঞানের সমন্বয়ই একজন চিকিৎসককে প্রকৃত অর্থে সফল করে তোলে।


Share This Article

Share on Facebook