HomeoSeba

দীর্ঘদিনের মাইগ্রেন সমস্যায় ন্যাট্রাম মিউর-এর সফল প্রয়োগ

হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার অন্যতম শক্তিশালী দিক হলো রোগীর শারীরিক উপসর্গের পাশাপাশি তার মানসিক অবস্থা, জীবনযাপন ও ব্যক্তিত্বকে সমগ্রভাবে বিবেচনা করা। নিচে এমনই একটি সফল কেস স্টাডি তুলে ধরা হলো।

রোগী ৩৫ বছর বয়সী একজন মহিলা, পেশায় স্কুল শিক্ষিকা। তিনি প্রায় ৮ বছর ধরে তীব্র মাইগ্রেন সমস্যায় ভুগছিলেন। মাথাব্যথা সাধারণত ডান পাশ থেকে শুরু হয়ে চোখের কোটরের দিকে ছড়িয়ে পড়ত। ব্যথা বাড়লে আলো ও শব্দ অসহ্য লাগত এবং মাঝে মাঝে বমি ভাব দেখা দিত। আধুনিক চিকিৎসায় সাময়িক আরাম পেলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি।

মানসিক দিক থেকে রোগী ছিলেন অন্তর্মুখী, আবেগ চেপে রাখার প্রবণতা ছিল। অতীতের একটি পারিবারিক কষ্টের কথা মনে হলে চোখে জল আসত, কিন্তু কারো সামনে প্রকাশ করতেন না। একাকিত্ব পছন্দ করতেন এবং সান্ত্বনায় বিরক্ত হতেন। খাবারের দিক থেকে লবণাক্ত খাবারের প্রতি ঝোঁক ছিল।

সার্বিক লক্ষণ বিশ্লেষণ করে রোগীর জন্য Natrum Muriaticum 200C নির্বাচন করা হয়। প্রথমে এক ডোজ প্রদান করা হয় এবং পরবর্তী ১৫ দিন কোনো ওষুধ দেওয়া হয়নি।

দ্বিতীয় ফলোআপে রোগী জানান, মাথাব্যথার তীব্রতা প্রায় ৫০% কমেছে এবং ব্যথার ফ্রিকোয়েন্সিও হ্রাস পেয়েছে। মানসিকভাবে তিনি আগের তুলনায় হালকা অনুভব করছেন। একই ওষুধ পুনরায় এক ডোজ দেওয়া হয়।

দুই মাসের চিকিৎসা শেষে দেখা যায়, মাইগ্রেনের আক্রমণ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। আলো ও শব্দে অতিসংবেদনশীলতা নেই এবং রোগী আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দৈনন্দিন কাজ করতে পারছেন।

এই কেসটি প্রমাণ করে যে, সঠিক লক্ষণ নির্বাচন ও যথাযথ রেমেডি প্রয়োগে হোমিওপ্যাথি দীর্ঘদিনের জটিল রোগেও স্থায়ী উপকার দিতে সক্ষম।


Share This Article

Share on Facebook