HomeoSeba

দীর্ঘস্থায়ী রোগে হোমিওপ্যাথির জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি: রোগীর আস্থা বাড়ছে

বাংলাদেশে দীর্ঘস্থায়ী রোগের চিকিৎসায় হোমিওপ্যাথির প্রতি সাধারণ মানুষের আগ্রহ ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। অ্যাজমা, মাইগ্রেন, চর্মরোগ, অর্শ, বাত-ব্যথা এবং হরমোনজনিত সমস্যায় বহু রোগী এখন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাকে একটি কার্যকর ও নিরাপদ বিকল্প হিসেবে বেছে নিচ্ছেন।

চিকিৎসকরা বলছেন, দীর্ঘদিন ওষুধ গ্রহণের ফলে অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসায় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেওয়ায় অনেক রোগী বিকল্প চিকিৎসার দিকে ঝুঁকছেন। হোমিওপ্যাথিতে রোগীকে সামগ্রিকভাবে মূল্যায়ন করে চিকিৎসা দেওয়া হয়—এই বিষয়টি রোগীদের মধ্যে আস্থা তৈরি করেছে।

রাজধানী ঢাকা ছাড়াও জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে হোমিওপ্যাথিক চেম্বারে রোগীর উপস্থিতি আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে হোমিও চিকিৎসার নিরাপত্তা ও ধীর কিন্তু স্থায়ী ফলাফল মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠছে।

অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, হোমিওপ্যাথি শুধু রোগ নয়, রোগীর মানসিক ও শারীরিক অবস্থাকে সমান গুরুত্ব দেয়। এই সমন্বিত চিকিৎসা পদ্ধতির কারণেই দীর্ঘস্থায়ী রোগে ভালো ফল পাওয়া যাচ্ছে। অনেক রোগী জানিয়েছেন, নিয়মিত চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে তারা ওষুধের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে সক্ষম হয়েছেন।

এদিকে হোমিওপ্যাথি চর্চায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারও বাড়ছে। অনলাইন কনসালটেশন, ডিজিটাল কেস রেকর্ড এবং সফটওয়্যারভিত্তিক রিপার্টরাইজেশন চিকিৎসা প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও কার্যকর করেছে। ফলে গ্রামাঞ্চলের রোগীরাও এখন শহরের অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের সেবা পাচ্ছেন।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, এই জনপ্রিয়তার সঙ্গে সঙ্গে সঠিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসকের সংখ্যা বাড়ানো জরুরি। ভুয়া বা অপ্রশিক্ষিত চিকিৎসকের কারণে হোমিওপ্যাথির সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত মান নিয়ন্ত্রণ ও লাইসেন্স ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা।

সামগ্রিকভাবে বলা যায়, দীর্ঘস্থায়ী রোগে হোমিওপ্যাথির জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। যথাযথ গবেষণা, মানসম্মত শিক্ষা এবং সচেতন রোগী ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই চিকিৎসা পদ্ধতি ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে মানুষের উপকারে আসতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।


Share This Article

Share on Facebook