HomeoSeba

বাংলাদেশে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় নতুন আগ্রহ: শিক্ষার্থী ও রোগীর সংখ্যা বাড়ছে

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার প্রতি সাধারণ মানুষ ও চিকিৎসা শিক্ষার্থীদের আগ্রহ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজে ভর্তি ইচ্ছুক শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে এবং গ্রাম থেকে শহর—সব জায়গাতেই হোমিও চিকিৎসার চাহিদা আগের তুলনায় বেশি দেখা যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী রোগে অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং ব্যয়বহুল চিকিৎসা ব্যবস্থার কারণে অনেক মানুষ বিকল্প ও নিরাপদ চিকিৎসা পদ্ধতির দিকে ঝুঁকছেন। এই বাস্তবতায় হোমিওপ্যাথি একটি কার্যকর ও সহনশীল চিকিৎসা পদ্ধতি হিসেবে নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে।

বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে হোমিওপ্যাথিক ডিপ্লোমা ও ডিগ্রি কোর্সে ভর্তির হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে তরুণ শিক্ষার্থীরা এখন হোমিওপ্যাথিকে একটি সম্ভাবনাময় পেশা হিসেবে বিবেচনা করছেন। পাশাপাশি অনেক অভিজ্ঞ চিকিৎসক আধুনিক গবেষণার সাথে হোমিওপ্যাথির সমন্বয় ঘটানোর ওপর জোর দিচ্ছেন।

এদিকে রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা সেবার পরিধি সম্প্রসারণে নতুন ক্লিনিক ও চেম্বার চালু হয়েছে। ত্বক রোগ, এলার্জি, হাঁপানি, গ্যাস্ট্রিক, মানসিক উদ্বেগ এবং শিশু রোগে হোমিও চিকিৎসার সফলতা রোগীদের আস্থা বাড়িয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা।

হোমিও চিকিৎসা গবেষণার ক্ষেত্রেও কিছু ইতিবাচক অগ্রগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জার্নালে বাংলাদেশি গবেষকদের অংশগ্রহণ বাড়ছে এবং অনলাইন সেমিনার, ওয়েবিনার ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আধুনিক চিকিৎসা জ্ঞানের আদান-প্রদান হচ্ছে।

তবে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করেন, এই অগ্রযাত্রাকে টেকসই করতে হলে মানসম্মত শিক্ষা, দক্ষ শিক্ষক এবং নিয়ন্ত্রিত চিকিৎসা চর্চা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি ভুয়া চিকিৎসক ও অনিয়ন্ত্রিত প্রেসক্রিপশন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, বাংলাদেশে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা একটি নতুন সম্ভাবনার পথে এগোচ্ছে। সঠিক নীতিমালা ও আধুনিক গবেষণার সমন্বয় ঘটাতে পারলে ভবিষ্যতে এই চিকিৎসা পদ্ধতি জনস্বাস্থ্যে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারবে বলে আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা।


Share This Article

Share on Facebook